বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১৪ দফা দাবি পেশ করেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোঃ তসলিম। এছাড়া হারুনুর রশিদ খাঁন, কবির আহমদ, কামরুন নাহার, এবং সাহিদা সরকারসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নতুন নির্ধারিত এই মজুরি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া গত ১ নভেম্বর গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দিতে হবে, যেখানে শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারদর বিবেচনা করা হবে।

শিল্পকারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উৎপাদন ব্যাহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফেডারেশন একে "শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতা" হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং তা প্রতিহত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন আর শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কর্তৃক তৈরি পোশাকশিল্পের (গার্মেন্টস) সংকট নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির প্রধান ও উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে

মজুরি, বকেয়া ও রেশন সংক্রান্ত দাবি

  • ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ: জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং তা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে।
  • বকেয়া পরিশোধ: শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
  • রেশনিং ব্যবস্থা: শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও মামলার বিচার

  • তৌফিক শেখ হত্যার বিচার: তৌফিক শেখ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
  • আহতদের সুচিকিৎসা: আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  • সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত: কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও সহিংসতায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
  • হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
  • নিরপরাধদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার: গ্রেপ্তার হওয়া নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে এবং শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
  • রাজনৈতিক হামলা বন্ধ: রাজনৈতিক পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

কারখানা ব্যবস্থাপনা ও চাকরির নিরাপত্তা

  • শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা: পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষায় শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • ত্রিপক্ষীয় সংলাপ: সমস্যা সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে।
  • ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন ও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র এবং উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • বন্ধ কারখানা চালু: বর্তমানে বন্ধ থাকা সব পোশাক কারখানা দ্রুত খুলে দিতে হবে।
  • ছাঁটাই বন্ধ ও পুনর্বাসন: অন্যায় ও বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে এবং কালো তালিকাভুক্ত (Blacklisted) শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি