সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

শিবিরের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার, চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ বাছাই কমিটি গঠন, নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পিএসসির অধীনে সম্পন্ন করা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

এ ছাড়া ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি চালু রাখা, সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত পদায়ন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি লিখিত পরীক্ষার কোডভিত্তিক মূল্যায়ন, ভাইভায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত, অস্বাভাবিক নম্বরের অসংগতি রোধে অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রশ্নফাঁস ও প্রক্সি পরীক্ষা ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেরও দাবি জানিয়েছে।

পাশাপাশি প্রার্থীর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নিয়মাবলি প্রকাশ, সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন এবং নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থীর আপিলের সুযোগ রাখার দাবি করা হয়।

শিবিরের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ প্রয়োজনীয় বিধান সংশোধন করে আনুগত্যের পরিবর্তে মেধা, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।