সিলেটে থামছেই না ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ১৩ ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৫ জনে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭১ জন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ১৩ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঁচজন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে দু’জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭১ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১১ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিনজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিভাগে শনাক্ত ৯৫৫ জনের মধ্যে হবিগঞ্জের ৩৮৫ জন, সুনামগঞ্জের ২১৩ জন, সিলেটের ২৩৬ জন ও মৌলভীবাজারের ৮৮ জন রয়েছেন। এছাড়া অন্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরো ৩৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছর সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২ নভেম্বর জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরুল আলম (৫৪)। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা।
এর আগে, ২৫ অক্টোবর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু ফারদিন আহমদ (৪)। তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায়। এছাড়া ১৮ অক্টোবর একই হাসপাতালে মারা যান হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নেপাল চন্দ্র দাস (৫২)।
এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ছলিমা বেগম (৬০)। ৮ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে মারা যান হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫)।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২ আগস্ট। এ দিন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আফিয়া খানম (৫৪) নামে এক নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।












