প্রবাসীদের অধিকার, সম্পদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন। এ লক্ষ্যে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার ঢাকায় আইনমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় নবগঠিত সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সাক্ষাতে বেলায়েত হোসাইনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেইন এবং সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এডিএম ইউনুস।
অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত পৃথক সাক্ষাতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এডিএম ইউনুস। এ ছাড়া সফরকালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।
সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশী স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত এসব প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষার আন্দোলনেও প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেক প্রবাসী মূলত বসবাসের দেশে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি।
প্রবাসীদের নানা হয়রানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখার পরও প্রবাসীরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হন। বিভিন্ন স্থানে অবহেলা ও হয়রানির শিকার হন তাঁরা। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে হয়রা নি, বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে সেবা পেতে ভোগান্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বেলায়েত হোসাইন বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে রাষ্ট্র গর্ব করলেও কোনো সরকারের আমলেই তাঁদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রবাসীরা নিজের দেশ, সম্পদ ও স্বজনদের রেখে বিদেশে যান। দেশে ফিরে অনেকে দেখেন, তাঁদের সম্পদ বেহাত হয়ে গেছে। প্রবাসীদের সম্পদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বেলায়েত হোসাইন। তিনি বলেন, সব প্রবাসীকে দ্রুত ভোটার তালিকাভুক্ত করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও নির্বিঘেœ ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কানাডা ও ফ্রান্সের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন, বিমানবন্দরে তাঁদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, দূতাবাস ও হাইকমিশনের সেবার মান বাড়ানো এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তাঁর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাতের সুযোগ ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বেলায়েত হোসাইন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি লন্ডনে সম্মিলিত প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন বর্তমানে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সফরের অংশ হিসেবে সরকারের নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎ করে প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছেন তিনি।












