ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়িদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মিশিগানের মার্কিন সিনেট আসনে জয়লাভ করেছেন।
এর আগে, ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য ডিরেক্টর আল-সাইয়িদ একটি ব্যয়বহুল ও তিক্ততাপূর্ণ ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সামান্য ব্যবধানে হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করেছিলেন। এরপর গত রোববার হ্যালি স্টিভেনস রজার্সকে সমর্থন জানান।
বিজয়ী ভাষণে উল্লাসিত সমর্থকদের উদ্দেশে আল-সাইয়িদ বলেন, ‘যেসব বাবা-মা তাদের সন্তানদের এটা বোঝাতে হিমশিম খেয়েছেন যে কেন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে কারো নাম বা প্রার্থনার পদ্ধতি নিয়ে উপহাস করেন, তাদের কালকে জানিয়ে দিন যে খারাপ মানুষেরা হেরে গেছে।‘
তিনি তার প্রচারণার মূল বার্তাগুলোও পুনর্ব্যক্ত করেন। বার্তাগুলো হলো জীবনযাত্রার ব্যয় সাধ্যের মধ্যে রাখা, রাজনীতি থেকে অর্থপ্রভাব দূর করা, সবার জন্য মেডিকেয়ার পাস করা এবং বিদেশী যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধ করা।
আল-সাইয়িদ বলেন, ‘টিনএজ বা সন্তানদের কর দিয়ে এটা জানা কঠিন হওয়া উচিত নয় যে সেই টাকা আপনার এবং আপনার সন্তানের পেছনে খরচ হচ্ছে, অন্য কারো বা তাদের সন্তানদের ওপর বোমা ফেলার কাজে নয়।‘
আল-সাইয়িদ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন—যারা পুরো নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিক (ইসলামভীতিমূলক) ও জাতিগতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড—আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার কষ্ট হয়েছে। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি (ভ্যান্স)-এর শপথবাক্য পাঠ করানোর পর থেকে আপনি আমাকে কেবল ‘সিনেটর‘ বলেই ডাকতে পারেন।‘
১৯৯৪ সালের পর থেকে কোনো রিপাবলিকান এই অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে জয়ী হননি, তবে দুই মেয়াদের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসর নেয়ার কারণে একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এই নির্বাচনে গত ৪ আগস্টের প্রাইমারির পর কেবল বিজ্ঞাপনের পেছনেই ১০০ মিলিয়নের বেশি ডলার ব্যয় করা হয়।
আল-সাইয়িদ বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে অর্থ বনাম সাধারণ মানুষের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষেরই জয় হয়।‘
ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আল-সাইয়িদের প্রচারণার শেষ দিনগুলো কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল। গত রোববার তার প্রাথমিক নির্বাচনের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেনস রজার্সের সমর্থনে সামনে আসেন এবং আল-সাইয়িদের প্রচারণায় ‘ঘৃণা ছড়ানোর‘ তীব্র সমালোচনা করেন।
মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটদের বহু কণ্টকাকীর্ণ জয়ের বিপরীতে মিশিগানের সিনেটের দু‘টি আসনেই আগে থেকেই ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাই আল-সাইয়িদের এই জয় সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি।
তবে তার রাজনৈতিক মতাদর্শ—যা ডেমোক্র্যাটিক ককাসের সংখ্যাগরিষ্ঠের তুলনায় অধিক বামপন্থী ও র্যাডিক্যাল বলে মনে করা হয়—পুরো প্রচারণাজুড়ে সবার নজর কেড়েছে।
বিজয়ী ভাষণে তিনি তার সেই বার্তাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন যা তার প্রচারণাকে চাঙ্গা করে তুলেছিল, আর তা হলো—‘বড় করপোরেশন ও ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো‘।
এই ধরনের বার্তা উদীয়মান ডেমোক্র্যাটদের একটি নতুন ধারার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য—যাদের মাঝে মাঝে জনতাবাদী (পপুলিস্ট) বলা হয়—যারা ইসরাইলকে মার্কিন সমর্থন, সমাজতন্ত্র এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের মতো বিষয়গুলোতে দলের ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছেন।
সূত্র : আল জাজিরা












