বিশ্বনেতাদের কেউ এ ফলাফলকে গণতন্ত্রের পক্ষে জনরায় হিসেবে দেখছেন, কেউ যুদ্ধনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

ওবামা ও সানচেজের প্রতিক্রিয়া

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সমাধানমুখী ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার রাজনীতিই আমেরিকানরা বেছে নিয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, জনগণ এমন নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যা মানুষকে দরিদ্র করে এবং সমাজে ঘৃণা ও লিঙ্গবৈষম্য ছড়ায়। তাঁর মতে, অভিজাত শ্রেণির সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে এটি সাধারণ মানুষের জয়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে যুদ্ধবিরোধী জনরায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ যুদ্ধকে না বলে দিয়েছে এবং আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেইলারদের তুষ্ট করতে ওয়াশিংটন যদি জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে সেই ‘না’-এর পরিণতি তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।

ইউরোপের নেতাদের বক্তব্য

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড ল্যাঞ্জ নির্বাচনের ফলাফলকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবতেন; ভোটাররা এবার তাঁকে সেই বার্তা দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জার্মানির কট্টর ডানপন্থি দল এএফডির নেত্রী অ্যালিস ওয়েইডেল বলেন, ভোটারদের কাছে হস্তক্ষেপহীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়েছে।

ফ্রান্সের নেতা জর্ডান বারদেলা বলেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে ইউরোপের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবং নির্বাচনে ভোটাররা এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

রাশিয়ার অবস্থান

নির্বাচনের ফলাফলে মস্কোর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেই রাশিয়ার বিপক্ষে। তবে ইউক্রেন সংকট বা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মস্কো অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

জাপান ও তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এলেও জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা জোটে কোনো পরিবর্তন হবে না।

তাইওয়ানও আশা প্রকাশ করেছে, মার্কিন কংগ্রেসে তাদের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি এবং ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়েও ওয়াশিংটনের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এস