বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। একসময় রাজধানী ঢাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শহরের দুটি সরকারি হাসপাতালে ১৫ জন এবং শহরতলির বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং শেরপুর ও ধুনটের হাসপাতালে দুজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বগুড়া জেলায় মোট ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৬৬৮ জন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। তাঁরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ জন ভর্তি আছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৫ জন, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন, ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, শেরপুরে পাঁচজন, গাবতলীতে তিনজন, সোনাতলায় একজন এবং নন্দীগ্রামে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকায় রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। তবে উপসর্গের তীব্রতা কম থাকায় অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মশা নিধনের লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে। নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর কবল থেকে নিজেদের ও নগরবাসীকে রক্ষা করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশে এবং ছাদে জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফারজানুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।