সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসআরবির কাছে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন তারা। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের ছয়জন, পাবনার ৫৪ জন এবং রাজবাড়ীর পাঁচজন রয়েছেন।
একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় নানা সহিংস ঘটনা ঘটত। মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন এসব অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। ১৯৬৮ সাল থেকে বিস্তার লাভ করা সংগঠনগুলো আশি ও নব্বইয়ের দশকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষে জড়ায় তারা।
১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ৫৯৬ জন চরমপন্থি। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে র্যাব-১২ কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন সাত জেলার আরও ৩২৩ জন। এর ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৬৫ জন আত্মসমর্পণ করলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের অধিকার নিশ্চিত করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।
এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, এবার যেভাবে সফল হওয়া গেছে, সেভাবে যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি, তাদেরও শান্তির পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।












