পাঁচ দিনের ব্যবধানে খুলনায় আসছেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ দুই নেতা। আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর পাঁচ দিন পর ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই নেতার আগমন ঘিরে খুলনায় রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নগরসজ্জা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, খুলনা সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে, লংমার্চ সফল করতে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। দুই কর্মসূচি ঘিরে আগামী কয়েক দিন নগরীতে বাড়তি জনসমাগম, যানবাহনের চাপ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন। ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এ আয়োজনের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এ উপলক্ষে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নগরীর সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে ৪২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।
শুরুতে শনিবার সকালে বাইতুল মোকাররমের দক্ষিণ কেটে মূল সমাবেশ দিয়ে লংমার্কেট যাত্রা শুরু হবে এবং শেষ হবে কুষ্টিয়ায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে। এর মাঝে পদ্মা সেতুর পাড়, ভাঙ্গা মোড়, কাটাখালি, খুলনা ও ফুলতলাসহ অনেক স্থানে হবে পথসভা।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহবায়ক ও খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিববাড়ী) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা সফল করতে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি ইতিমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পাজেরো, হাইয়েস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের এক হাজারের বেশি যানবাহন নিয়ে লংমার্চের বহর সকাল ১১টার মধ্যে বাবরী চত্বরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্টার, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
বাবরী চত্বরে ৪৫ ফুট বাই ২৪ ফুটের মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি। পথসভার শব্দ পরিবর্ধনের জন্য দুই শতাধিক হর্নসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি যানবাহন রাখার জন্য জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকায় তিনটি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে মিছিল, গণসংযোগ এবং শতাধিক মাইকিং ইউনিটের মাধ্যমে প্রচারও চালানো হচ্ছে।
লংমার্চের কারণে নগরবাসী ও ব্যবসায়ীদের সাময়িক ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁরা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
অপরদিকে, দুই নেতার আগমন ও কর্মসূচি ঘিরে খুলনায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও নগরবাসীর প্রত্যাশা, বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলোরও সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলসহ আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বিষয়ে নাগরিকদের আশ্বস্ত করার প্রত্যাশা প্রধান দুই শীর্ষ নেতার প্রতি।












