খুলনা জেলা ও মহানগরীর দুটি পৃথক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত ভয়াবহ জোড়া গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে বটিয়াঘাটা এবং নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই সাবেক নেতাসহ মোট তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে এক ছাত্রদল নেতার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে জোর অভিযান শুরু হয়েছে।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখ এবং জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি অহিদুল ইসলাম বাদল গুরুতর আহত হন। তাদের লক্ষ্য করে দূর থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হলে দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় সোহেল শেখকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। একই হাসপাতালে যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলের শরীরে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্যদিকে, নগরীর নিরালা এলাকায় গুলিবিদ্ধ জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী সালমান হাওলাদার স্থানীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সহিংসতার জোড়া ঘটনার পরপরই খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও তদন্তের স্বার্থে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মেহেদি হাসানকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে খুলনা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুখ জানান, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন পদায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের পুরনো দ্বন্দ্বের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অপরাধীদের জালে তুলতে বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে।
থানা পর্যায়ে পরিবর্তন আসার পরই বটিয়াঘাটা থানার নতুন ওসি এস এম মিজানুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের একাধিক দল অপরাধীদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছে, যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই তারা আইনের আওতায় আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অপর ঘটনা প্রসঙ্গে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, নিরালা এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালমান হাওলাদারকে গুলির নেপথ্যে থাকা আসামিদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।#












