ম্যানেজার ফোন রিসিভ না করার জেরে খুলনার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে একদল কিশোর। গত বুধবার বিকেলে নগরীর আহসান আহমেদ রোডের 'চাইনিজ প্যালেসে' এ ঘটনাটি ঘটে। দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে রেস্তোরাঁয় থাকা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে, একই দিনে নগরীর স্যার ইকবাল রোডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় একটি নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশু মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান। পৃথক এই দুটি ঘটনায় খুলনা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রেস্তোরাঁ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদল কিশোর হঠাৎ আহসান আহমেদ রোডের চাইনিজ প্যালেস রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। রেস্তোরাঁর কর্মীরা এর কারণ জানতে চাইলে কিশোররা চড়াও হয় এবং চেয়ার তুলে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা রেস্তোরাঁর তিনটি চেয়ার ও একটি পানির গ্লাস ভেঙে ফেলে। হামলার পর তারা কোনো চাঁদা দাবি না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া নুর আজিমের সহযোগী ফাকাব্বির রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে ফোন দিয়েছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ম্যানেজার সেই ফোন ধরতে পারেননি। ফোন না ধরার আক্রোশ থেকেই ফাকাব্বিরের সহযোগীরা এই অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, হামলার ঘটনার পর পুলিশ রেস্তোরাঁটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, একই দিন বুধবার নগরীর স্যার ইকবাল রোডস্থ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। প্রসূতি ফারহানার প্রসব বেদনা উঠলে গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলা হলেও রাত ১টার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ঘুমিয়ে পড়েন এবং ওয়ার্ডে আর কোনো দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। রাত দেড়টার দিকে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লেও চিকিৎসকরা সাড়া দেননি। পরবর্তীতে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক আয়া এসে জোরপূর্বক প্রসব করানোর চেষ্টা করলে নবজাতকটি মারা যায়। নবজাতকের মামা সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণেই তার বোনের সন্তান প্রাণ হারিয়েছে। এর আগেও এই কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে তিনি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া না গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রোগীর নির্ধারিত প্রসবের তারিখ আরও এক মাস বাকি ছিল। তবে রাতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরও ঠিক কী কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ অক্টোবর রাতে ও ২৫ অক্টোবর নগরীর পৃথক দুটি স্থানে অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিকের সামনে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া এবং ক্লিনিকের ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। পরপর ঘটে যাওয়া এসব অপরাধমূলক ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।#