আজিজুর রহমান মশিউর যশোর:

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ। কর্মসূচি ঘিরে যশোরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অভয়নগর থেকে যশোর শহর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন মোড়, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানানো এবং পথসভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এসব কর্মসূচি ও যশোরের মুরলী মোড়ের জনসভায় আড়াই লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মসূচি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। লংমার্চের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা। আয়োজকদের ভাষ্য, এসব দাবি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

লংমার্চের যশোর পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শহরের মুরলী মোড়ের জনসভা। জনসভা সফল করতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহর পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, অভয়নগর হয়ে লংমার্চের বহর যশোরে প্রবেশের পর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা স্বাগত জানাবেন। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজার এলাকায় পথসভা এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

যশোরের মুরলী মোড়ের জনসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকার মানুষ অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন জামায়তের স্থানীয় নেতারা । তাঁদের প্রত্যাশা, পথসভা ও স্বাগত কর্মসূচিসহ জনসভায় সব মিলিয়ে আড়াই লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটতে পারে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা, সমন্বয় ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

১১দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, দ্রব্যমূল্যের সহনীয় অবস্থা এবং জনজীবনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জনপরিসরে গুরুত্ব পাচ্ছে। লংমার্চের মাধ্যমে এসব বিষয় সামনে এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তাঁরা।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। তাঁরা বলেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে।

বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কর্মসূচি চলাকালে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হবেনা।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে লংমার্চ শুরু হবে। পদ্মা সেতু অতিক্রম করে মাদারিপুরের নাউডোবার মোড় বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়, খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাজার হয়ে ১৫’শ গাড়ির বহরটি যশোরে প্রবেশ করবে। এরপর অভয়নগর হয়ে মুরলী মোড়ের জনসভা শেষে পালবাড়ী মোড়, চূড়ামনকাটি বাজার ও সাতমাইল বাজার হয়ে ঝিনাইদহ অতিক্রম করে কুষ্টিয়া শহরে জনসভা কর্মসূচি শেষ হবে। লংমার্চকে ঘিরে যশোরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।

যশোর ৪ (অভয়নগর বাঘারপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিসহ জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

এই লংমার্চ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কর্মসূচি নয়, ঘোষিত সাত দফা দাবির মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যচাপ থেকে স্বস্তি পায়, কৃষক যেন সময়মতো সার পায়, নাগরিকেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়—এগুলোই আমাদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমরা আশা করি, যশোরের সর্বস্তরের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে যশোর এবং কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসমাবেশের মাধ্যমে জনগণের বক্তব্য তুলে ধরা হবে। যশোরের মুরলী মোড়ের জনসভাকে সফল করতে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সাধারণ মানুষের চলাচলে অযথা ভোগান্তি সৃষ্টি না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন রাখব। কোনো ধরনের উসকানি, বিশৃঙ্খলা বা সংঘাত নয় বরং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের দাবি তুলে ধরব।

আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে আমি যশোরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।