গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে হুইলচেয়ারে বসেই রাজপথে নেমেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার।
বুধবার সকালে টঙ্গীর স্টেশন রোড ও চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানান। একইসাথে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানান।
এদিন গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষের নামে নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে টঙ্গী থানা বিএনপি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চেরাগ আলী এলাকায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে হুইলচেয়ারে বসে উপস্থিত হন তিনি। তার উপস্থিতি ও বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
কর্মসূচিতে বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। মার খেয়েও পুলিশ শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ করছে না। তবে পুলিশকে উসকানি দিয়ে পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তি আওয়ামী লীগ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ কিংবা সরকারি দলের হাতে কেউ নিহত হোক এবং সেই মৃত্যুকে পুঁজি করে লাশ নিয়ে মিছিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হোক—এমন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।’
এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তির ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। শ্রমিক, সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহবান জানান তিনি।’
একইসাথে কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক এক নম্বর যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে কোনো মহল যাতে নৈরাজ্য, ভাঙচুর ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি শ্রমিকদের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।’
এদিকে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহউদ্দিন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক সাজেদুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহামদুর রহমান মিরণসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা টঙ্গী বিসিকসহ শিল্পনগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগের নাশকতা প্রতিরোধে তারা নজরদারি করছেন বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়।












