বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের ম্যাচে রাজশাহী বিভাগকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর বিভাগ। দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহীকে ১৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য পায় রংপুর। ৪ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় দলটি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন রংপুরের মেহেদী হাসান। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে রংপুর। অন্যদিকে, রাজশাহী নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে রাজশাহী। রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দলটি। আগের দিন ৪১ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক প্রিতম আর কোনো রান যোগ না করেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর লোয়ার অর্ডারে নিহাদুজ্জামান ও ওয়াসি সিদ্দিকী কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। দলের পক্ষে নিহাদুজ্জামান ও ওয়াসি সিদ্দিকী দুজনই ২৮ রান করেন।

রংপুরের হয়ে মেহেদী হাসান ৩টি, আলাউদ্দিন বাবু ও শাহরিয়া আল-আমিন ২টি করে এবং মামুন, রিশাদ ও আবু হাশিম একটি করে উইকেট নেন।

১৬০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রংপুরের দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মীম মোসাদ্দেক। ৫ ওভার ৪ বলে ৩৯ রান যোগ করার পর ১৪ বলে ১৮ রান করে আউট হন অনিক। এরপর ইকবাল হোসেনকে সাথে নিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন মীম মোসাদ্দেক।

দলীয় ১৪১ রানের মাথায় নিহাদুজ্জামানের বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মীম। ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। এরপর রিশাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে রংপুর। রিশাদ ১৯ বলে একটি চার ও তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ৩০ রান করেন। ইকবাল হোসেন করেন ২৯ রান। রাজশাহীর হয়ে পায়েল, ওয়াসি ও নিহাদুজ্জামান একটি করে উইকেট নেন। রংপুরের একজন ব্যাটসম্যান রানআউট হন।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রংপুরের মেহেদী হাসান। ম্যাচ শেষে তাঁর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।

বগুড়া ভেন্যুতে চার দিনের পরবর্তী ম্যাচ শুরু হবে ৭ নভেম্বর। এতে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী, প্রথম ইনিংস: ২৩১ রান। মেহেরব ১০১, নিহাদুজ্জামান ৫৭, নাঈম আহমেদ ২০। রংপুরের মেহেদী ৩৭ রানে ৪ উইকেট, বাবু ১৮ রানে ২ উইকেট।

রংপুর, প্রথম ইনিংস: ২৫৬ রান। অনিক ৭৫, ইকবাল ৭০। রাজশাহীর পায়েল ৬৪ রানে ৫ উইকেট, শফিকুল ৬২ রানে ২ উইকেট।

রাজশাহী, দ্বিতীয় ইনিংস: ১৮৪ রান। প্রিতম ৪১, নাঈম ২৫, সাব্বির ২৫, নিহাদুজ্জামান ২৮, ওয়াসি সিদ্দিকী ২৮। রংপুরের মেহেদী ৬৭ রানে ৩ উইকেট, বাবু ৩৩ রানে ২ উইকেট, আল-আমিন ৩০ রানে ২ উইকেট।

রংপুর, দ্বিতীয় ইনিংস: ১৬০/৪। মীম মোসাদ্দেক ৬১, ইকবাল ২৯, রিশাদ ৩০*। রাজশাহীর পায়েল ২৭ রানে ১ উইকেট, ওয়াসি ৩৭ রানে ১ উইকেট, নিহাদুজ্জামান ২২ রানে ১ উইকেট।

ফল: রংপুর বিভাগ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: মেহেদী হাসান (রংপুর)।