রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সমাজে আলেম-ওলামা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা দ্বীনি শিক্ষা প্রচার, নৈতিকতা গঠন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ১২৩৬তম দলের ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাসিক প্রশাসক বলেন, বিগত ১৭ বছরে দাঁড়ি-টুপি ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অনেকে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে কেউ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা শুধু রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নয়; বরং মানুষের অধিকার, মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা। এর মূল লক্ষ্য হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, রাজশাহীর উপপরিচালক ডা. মো. আসেম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও খেলোয়াড়দের সুযোগ সৃষ্টিতে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই মানবিক উন্নয়নের পরিচয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহীকে আরও মানবিক, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন।