পৃথিবীর বুকে যত ধর্ম রয়েছে, তার প্রায় সবগুলোর নামকরণই হয়েছে কোনো বিশেষ ব্যক্তির নামে কিংবা যে জাতির মধ্যে তার জন্ম হয়েছে সেই জাতির নামে। যেমন—হযরত ঈসা (আ)-এর নামানুসারে ঈসায়ী বা খ্রিস্টধর্ম, মহাত্মা বুদ্ধের নামে বৌদ্ধ ধর্ম, কিংবা ইয়াহুদা গোষ্ঠীর নাম থেকে ইয়াহুদী ধর্ম।
কিন্তু নামের দিক থেকে 'ইসলাম' এক অসাধারণ ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এটি কোনো ব্যক্তি, দেশ বা জাতির সম্পত্তি নয়, বরং এর নামের মধ্যেই জড়িয়ে আছে একটি চিরন্তন মহাজাগতিক সত্য ও গুণ!
ইসলাম শব্দের অর্থ কী?
আরবী ভাষায় ‘ইসলাম’ বলতে বোঝায় আনুগত্য, বাধ্যতা এবং আত্মসমর্পণ। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও বাধ্যতা স্বীকার করে নেওয়া এই জীবনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য বলেই এর নাম হয়েছে ‘ইসলাম’।
মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা স্বভাবগতভাবে 'মুসলিম':
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এই মহাবিশ্বের চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, আলো, বাতাস, পানি—সবকিছুই এক অদৃশ্য, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় নিয়ম মেনে চলছে। ঠিক একইভাবে মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, হৃদপিণ্ডের গতি, রক্তপ্রবাহও আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়ম বা জীবতাত্ত্বিক বিধানের বাইরে যেতে পারে না।
যেহেতু মহাবিশ্বের সবকিছু অনিচ্ছাসত্ত্বেও স্রষ্টার দেওয়া নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে, তাই স্বভাব-প্রকৃতির দিক থেকে সৃষ্টির প্রতিটি উপাদান—এমনকি একজন অবিশ্বাসী মানুষও জন্মগতভাবে ‘মুসলিম’!
মানবজীবনের দুটি দিক এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলাম:
স্রষ্টা মানুষকে অন্য সব সৃষ্টির চেয়ে আলাদা করে একটি বিশেষ নেয়ামত দিয়েছেন—তা হলো জ্ঞানের অধিকার ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। এই ইচ্ছাশক্তির ভিত্তিতেই মানুষ দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়:
১. এক শ্রেণীর মানুষ তাদের এই স্বাধীন ক্ষমতাকে স্রষ্টাকে অস্বীকার করার পেছনে ব্যয় করে।
২. অন্য শ্রেণীর মানুষ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় তাদের এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে স্রষ্টার বিধানের কাছে সমর্পণ করে।
যারা জেনে-শুনে, স্বেচ্ছায় আল্লাহর আনুগত্যের পথ বেছে নেয়, তারাই মূলত পরিপূর্ণ মুসলিম। অনিচ্ছায় তাদের প্রাকৃতিক শরীর যেভাবে আল্লাহর নিয়ম মেনে চলছিল, স্বেচ্ছায়ও তারা তাদের চিন্তা ও কর্মকে আল্লাহর কানুনের অনুসারী করে তোলে। এরাই দুনিয়ার বুকে আল্লাহর প্রকৃত প্রতিনিধি (খলীফা)।
সূত্র: ইসলাম পরিচিতি












