কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। কলেজটিতে ১৯ জন শিক্ষক থাকলেও টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও শিক্ষা কার্যক্রমে নজরদারির অভাবের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ফল বিপর্যয়ের জন্য বাল্যবিবাহকে দায়ী করেছেন।
কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, চরশৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এ বছর ২৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।
রৌমারী উপজেলার ১৬টি কলেজের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য। এর আগে ২০২৫ সালেও কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ, টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল শূন্যের কোঠায় রয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে এ ফল বিপর্যয় হয়েছে। ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জনের বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা না পেলেও কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয়। কিন্তু অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর সংসারের কাজের চাপে পরীক্ষার আগে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। এ কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ঘাটতি এবং পরিচালনা পর্ষদের উদাসীনতার কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। পরিচালনা কমিটির কার্যকর নজরদারি না থাকায় শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। এর দায় শিক্ষার্থীদের বহন করতে হচ্ছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় কুড়িগ্রামের আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজারহাটের সিঙ্গার ডাবরিরহাট কলেজ থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরিরহাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ছাড়া নাগেশ্বরীর কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন, ছিলাখানা মডেল কলেজ থেকে চারজন, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন এবং চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
অন্যদিকে, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মিরের বাড়ি এলাকার পাঙ্গারাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি।
কুড়িগ্রাম জেলার সামগ্রিক এইচএসসি পরীক্ষার ফলও হতাশাজনক। এ বছর জেলায় ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৪ হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।












