এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সম্পূরক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার আয়োজন, অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। শুধু চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাই নন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাও সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তবে আগের বছরগুলোতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। তাদের ২০২৬ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে অথবা এ বছরের জন্য বৈধ নিবন্ধন থাকতে হবে।

অর্থাৎ, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে টানা দুই কিংবা তিন বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে এ সুযোগ পাওয়া যাবে না।

বোর্ড সূত্র আরও জানায়, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সম্পূরক পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব করেছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ রাখা হতে পারে। পাশাপাশি ১ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারীরা সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।