# :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদের মেয়াদ গত ২৬ অক্টোবর শেষ হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর থেকে তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই সঙ্গে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ননসেন্স’ ও ‘গাম্বাট’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাকসুর উদ্যোগে বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়ামের সরঞ্জাম সরবরাহসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। তাই ওই তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়। একইভাবে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত। এ কারণে রাকসু ও হল সংসদের নাম ব্যবহার করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির মন্তব্যের ঘরে জবাব দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি লেখেন, ‘কতবড় ননসেন্সগুলা, গাম্বাট এই বসে আছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগোলতে একটাবার চিন্তা করেন।’
আম্মার আরও লেখেন, রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছেন ২১ অক্টোবর। ছেলেদের ১১টি হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য সরঞ্জাম অর্ডার করে আনতে সময় লেগেছে। এ কারণে এখন এসব কাজ করা যাবে না—এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। অধিবেশনে অনুমোদিত আরও অন্তত এক ডজন কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো রাকসু শেষ করবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির মন্তব্যে লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই রাকসুর সভাপতি। তাঁর অনুমোদনক্রমেই রাকসুর তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কার্যক্রমগুলো নতুন নয়; বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। সামনেও এ ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। এ ছাড়া তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য দুটি বক্সিং ব্যাগ সরবরাহ এবং ছেলেদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রাকসুর নেতারা।












