টাঙ্গাইলে শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে সাবরিনা নাহার সিনথী নামে এক সৎ মাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এই দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সিনথী (২৪) রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মো: আলাউদ্দিনের মেয়ে।
টাঙ্গাইল দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমন ২০০৯ সালে কালিহাতীর এলেঙ্গায় লিজা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে সাইফ আহমেদ নামে এক ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু মনোমালিন্যের কারণে ইমনের সাথে লিজার তালাক হয়ে যায়।
পরে ২০১৮ সালে প্রেমের সূত্র ধরে সিনথীকে বিয়ে করেন ইমন। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী সিনথীকে নিয়ে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। আর শিশু সাইফ থাকতো তার দাদার কাছে।
২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ইমন তার ছেলে সাইফকে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরদিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইমন বাইরে থাকার সুযোগে সিনথী পরিকল্পিতভাবে সাইফকে ওড়না দিয়ে হাত-পা ও নাক-মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে এবং পরে পানি ভরা বালতিতে মাথা ডুবিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি শিশু সাইফের দাদা সরোয়ার হোসেন টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে সিনথীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একপর্যায়ে শিশু সাইফকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সিনথী।
২০২০ সালের ১৪ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। বিচার শেষে সৎ মা সিনথীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শেফালী আক্তার।












