গাজীপুর মহানগরকে যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে শহরে চলাচলকারী অটোরিকশার শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় শিগগিরই ই-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
এ ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্কাউট, বিএনসিসি, সিনিয়র সিটিজেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরের সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জুলাই চত্বর পর্যন্ত এলাকাকে যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, গাজীপুর এমন একটি শহর, যা পুরোপুরি শহরও নয়, আবার গ্রামও নয়। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ শহরকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রশাসনের পদক্ষেপে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় শহরে চলাচলকারী অটোরিকশার সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে অটোরিকশার ই-নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালুর কথা জানানো হয়। নিবন্ধন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনা, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কমানো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় স্কাউট সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁদের পাশাপাশি সিনিয়র সিটিজেন, বিএনসিসি সদস্য এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)এম. রকিবুল হাসান,সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা, সংস্থাপন শাখা এবং মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মোঃ আরিফ হোসাঈনসহ বিভিন্ন কলেজ, বিএনসিসি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, যানজট ও শব্দদূষণ গাজীপুর মহানগরের নাগরিক জীবনের অন্যতম সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অটোরিকশার নিয়ন্ত্রিত চলাচল, শব্দদূষণ রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবহারকারী, চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জুলাই চত্বর পর্যন্ত এলাকাকে যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত করার উদ্যোগ সফল হবে। পর্যায়ক্রমে এ অভিজ্ঞতা মহানগরের অন্যান্য এলাকাতেও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর নিবন্ধন ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরকে আরও সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় অংশগ্রহণকারীরা।












