আজ বুধবার (১ অক্টোবর) নগরীর পশ্চিম টালিপাড়ায় প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সংঘের উদ্যোগে র্যারি, আলোচনা ও বিভিন্ন জাতের গাছের বিতরণের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলিমনগর ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার লিটন কস্তা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের আলোকিত শিশু প্রকল্পের পিও মিসেস রুথ র্যান্সি হাঁসদা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সংঘের ফোরাম কমিটির সভাপতি মি. যোমেফ মুরমু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সংঘের প্রতিবন্ধী নারী ফোরামের সভানেত্রী মিসেস শিলা মুরমু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সংঘের সভাপতি মি. এভারিষ্ট হেম্ব্রম। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের এনিমেটর স্বপন এল. গমেজ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধের ধারক-বাহক। জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই প্রবীণদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা পরিবার ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।
বক্তারা বলেন, জীবনের শেষ সময়ে কোনো প্রবীণ যেন একাকিত্ব, অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, চিকিৎসাসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রতি করুণা নয়, অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে আচরণ করতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। যথাযথ সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তারা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবারে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যত্নের পরিবেশ তৈরি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আলোচনা সভা শেষে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের হাতে গাছের চারা তুলেদেন অতিথি বৃন্দরা। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সংঘের সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।












