প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে খুলনা নগরীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। রূপসার কুদির বটতলা থেকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফুলেল শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত স্থানীয়রা।
নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মোংলা বন্দরের চিত্র। পাশাপাশি এ অঞ্চলের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, শিল্পী এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি নগরীর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তুতি ও আয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে তারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম খুলনা সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে খুলনায় উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
খুলনাঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন রকিবুল ইসলাম। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের সঙ্গে এ অঞ্চলের উন্নয়ন গভীরভাবে জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খুলনার ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেন হুইপ।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। এবারের আসরে ১০টি ইভেন্ট থাকছে।
তিনি আরও জানান, স্কুল-কলেজের মাঠের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বছরই এক হাজার ইউনিয়নে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। চলতি অর্থবছরে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়নকাজ শুরুর আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এতে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে খুলনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস












