চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকাবাসীর হামলায় অসাাদুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১০টার দিকে উপজেলার বটতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহিত অশাদুল মৃত্যু ইয়াসিন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত তৃতীয় রমজান বটতলা গ্রামের ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ার, নিহত আসাদুলের ছেলে আব্দুর রশিদ ও বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন তিন জন মোটরসাইকেলে ঘুরতে যেয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এতে ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ার গুরুতর আহত হয় এবং স্মরণশক্তি হারিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অপর দুই জনের উপরে মামলা হলে আব্দুর রশিদ ও শাহীনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে আইনশৃংখলা বাহিনী। জেল থেকে জামিন হয়ে তিন দিন পূর্বে কাজের জন্য ঢাকা যান আব্দুর রশিদ।
ঢাকায় আব্দুর রশিদকে কে বা কারা মেরেছে সে সূত্র ধরে শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষ ইলিয়াস ও তার মেয়ে জামাইকে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে কাজ করতে দেখতে পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে আসাদুল ও তার ভাইয়েরা।
হামলার খবর পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আসাদুল ও তার ভাই আশরাফুল, আবু তালেব, নুজরুল ও ফজলুর বাড়িতে হামলা করে তাদের মারপিট করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আসাদুল ও আশরাফুলের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা: আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, এ ঘটনায় মোট ১২ জন আহত হয়ে মেডিক্যালে আসেন। তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যায়। দুইজন ভর্তি আছে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে আসাদুলের অবস্থা পথিমধ্যে বেগতিক হয়ে গেলে পথ থেকে মেডিক্যালে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে মৃত্য ঘোষণা করা হয়।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুল বারিক বলেন, পূর্বশত্রম্নতার জেরে গত বৃহস্পতিবার আসাদুলের ছেলেকে মারলে শুক্রবার আসাদুলেরা প্রতিপক্ষের দুই জনকে মারে। এতে দুইজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারা মারা গেছে বলে গ্রামে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরলে গ্রামবাসী এক হয়ে আসাদুল ও তার ভাইদের উপরে হামলা করে তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আহতদের মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। আসাদুলকে গুরুত্বর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাস্তায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া দেখে আবার উপজেলা মেডিক্যালে নিয়ে আসেন এবং ডাক্তার মৃত্য ঘোষণা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো: হাসান তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।












